বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সাকিবের অনন্য রেকর্ড

সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জেতার কোন বিকল্প ছিলনা বাংলাদেশের। কিন্তু টাইগারদের সামনে ছিল পাহাড়সম রান। এই রান তারা করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার খেলে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩৩ রান করে বাংলাদেশ। যার ফলে মুশফিকের সেঞ্চুরির পরেও ৪৮ রানে হেরে যায় টাইগাররা।

দশ বিশ্বকাপের ২৬তম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চারটি চারে ৪১ বলে ৪১ রান করেন সাকিব। চলমান আসরে নিজেদের রান সংখ্যা ৪২৫-এ নিয়ে যান তিনি। আর এর মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

এর আগে, বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে ৬ ম্যাচে ৩৬৫ রান করেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। গত বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। গেল ১৭ জুন টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৪ রান করে মাহমুদুল্লাহকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের মঞ্চে এক আসরে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক হয়েছিলেন সাকিব।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতে টাইগার বোলারদের দেখে শুনে খেলতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ান দুই ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ। কিন্তু শুরুর দিকে নতুন বলে টুকটাক সুযোগ তৈরি হলেও আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরি হয়নি বাংলাদেশের জন্য। তবে নিজের ব্যাক্তিগত ১০ রানে জীবন পেয়ে টাইগার বোলাদের উপর একাই তাণ্ডব চালিয়েছে ডেভিড ওয়ার্নার। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে তুলেন ডেভিড ওয়ার্নার।

আর সেই ক্যাচ তালুবন্দী করতে ব্যার্থ হয় সাব্বির রহমান। উদ্বোধনী জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে দারুণ সূচনা এনে দেয়। কিন্তু তাদের শতরানের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গেন পার্টটাইম বোলার সৌম্য সরকার।অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ৫৩ রান করেন। এরপর উসমান খাজাকে সাথে নিয়ে ডেভিড ওয়ার্নার তুলে নেন চলমান বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সেই ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় উইকেট পেয়েছেন সৌম্য সরকার। ১০ রানে জীবন পাওয়া ওয়ার্নার আউট হওয়ার আগে ১৪৭ বলে ১৬৬ রান করেন। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ান কোনো ব্যাটসম্যানের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। শেষের দিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ১০ বলে ৩৪ ও উসমান খাজার ৮৯ রানে বড় স্কোর করে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া আর কেউই উইকেটে দারাতে পারেনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৩৩৩/ ৮ (৫০ ওভার)

টার্গেট: ৩৮২

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ: ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), উসমান খাজা, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, মার্কোস স্টইনিস, অ্যালেক্স ক্যারে (উইকেটরক্ষক), নাথান কুল্টার-নাইল, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, অ্যাডাম জাম্পা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *